কুতুব মিনারের কথা সৈয়দ মুজতবা আলী প্রশ্ন উত্তর
কুতুব মিনারের কথা
সৈয়দ মুজতবা আলী
১) পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার কোনটি ?
উঃ কুতুব মিনার
২) একথা ইংরেজ পর্যন্ত স্বীকার করেছে - কোন কথা ইংরেজরা স্বীকার করেছে ?
উঃ কুতুব মিনার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার এ কথাটা ইংরেজরা পর্যন্ত স্বীকার করেছে।
৩) কুতুব মিনারের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ।
উঃ কুতুব মিনারের বৈশিষ্ট্য গুলি হল-
ক) কুতুব পাঁচতলার মিনার।
খ) এর প্রথম তলাতে আছে বাঁশি ও কোণের পরপর সাজানো নকশা।
গ) দ্বিতীয় তলাতে আছে শুধু বাঁশির নকশা এবং তৃতীয় তলাতে শুধু কোণের নকশা আছে।
ঘ) বাঁশি ও কোনের উপর দিয়ে মিনারটিকে কোমরবন্ধের মত ঘিরে রেখেছে সারি সারি লতা পাতা, ফুলের মালা ও চক্রের নকশা।
৪) অশোক স্তম্ভ দিল্লিতে আনেন কে ?
উঃ ফিরোজ তুঘলক
৫) চতুর্থ পঞ্চম তলার বিষয়ে কি জানা যায় ?
উঃ কুতুব মিনারের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা বজ্রাঘাতে ভেঙ্গ যায়। ফিরোজ তুঘলক মার্বেল দিয়ে তা মেরামত করে দেন।
৬) মিনারের কোন তলাতে আলো জ্বলে ?
উঃ পঞ্চম তলাতে
৭) আলাউদ্দিন খিলজীকে দুঃসাহসী রাজা বলা হয়েছে কেন ?
উঃ আলাউদ্দিন খিলজীই চেয়েছিলেন কুতুবের সঙ্গে পাল্লা দিতে। তাই কুতুবের দ্বিগুণ ঘের দিয়ে তিনি আরেকটি মিনার গড়তে আরম্ভ করেন। তা ইচ্ছা ছিল মিনারটি কুতুবের দ্বিগুণ উঁচু হবে। তাই তাকে দুঃসাহসী রাজা বলা হয়েছে।
৮) ইমারত মাত্রেই একটি অপটিমাম সাইজ থাকে কেন ?
উঃ ইমারত বড় হলে খারাপ দেখায় আবার ছোট হলেও খারাপ দেখায়। তাই ইমারত মাত্রই একটি অপটিমাম সাইজ থাকে।
৯) মিনার ও মিনারেট কি ?
উঃ আপন মহিমায় নিজস্ব ক্ষমতায় যে স্তম্ভ দাঁড়ায় তাকে মিনার বলে। যেমন - কুতুব মিনার
মসজিদ, সমাধি বা অন্য কোন ইমারতের অঙ্গ হিসাবে যে মিনার কখনো থাকে, কখনো থাকেনা তাকে মিনারেট বা মিনারিকা বলে। যেমন - তাজমহল
১০) ___________ মিনারিকা ভুবনবিখ্যাত।
উঃ তাজের
১১) একটি সম্পূর্ণ মিনারিকা বর্জিত ইমারতের উদাহরণ দাও।
উঃ হুমায়ূনের সমাধি
১২) গুজরাটের রাজধানী কোথায় ?
উঃ আহমদাবাদ
১৩) কুতুব মিনার নামটি কার নাম অনুসারে রাখা হয়েছে এবং কেন ?
উঃ কুতুবউদ্দিন আইবকের নাম অনুসারে রাখা হয়েছে।
কুতুবুদ্দিন আইবক দিল্লি জয় করে বিজয়ের স্মৃতি স্তম্ভ রূপে কুতুব মিনার নামকরণ করেছিলেন।
১৪) প্রপর্শন শব্দের অর্থ কি ?
উঃ সংগতি
১৫) মিনারটির গঠনে হিন্দু মুসলিম সাংস্কৃতিক মিলনের চেহারাটি কিভাবে ধরা পড়েছে তা লেখ।
উঃ কুতুব মিনারের গায়ের কারুকার্যের প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে। সমগ্র মিনারটির বাঁশি ও কোনের উপর দিয়ে কোমর বন্ধের মতো সারি সারি লতাপাতা ,ফুলের মালা ,চক্রের নকশা দিয়ে সাজানো ছিল। এগুলিকে যাতে হিন্দু বলা হয়েছে।
এর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এক সরি অন্তর আরবি লেখার সার। এগুলিকে যাতে মুসলমান বলা হয়েছে। কিন্তু উভয় কাজ করেছেন হিন্দু শিল্পী। মিনারটি পরিকল্পনা করেছে মুসলমান, যাবতীয় কারুশিল্প করেছেন হিন্দু। এভাবেই মিনারটি গঠনে হিন্দু মুসলিম সাংস্কৃতিক মিলনের চেহারাটি ধরা পড়েছে।
Comments
Post a Comment
Haven't doubt please let me know.