পথের পাঁচালী তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
১) "দুপুরে এক কাণ্ড ঘটিল"- কি কান্ড ঘটেছিল তার পরিচয় দাও।
উঃ আলোচ্য অংশটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা "পথের পাঁচালী" উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
অপুর মা সাবিত্রীব্রতের নিমন্ত্রণে গিয়েছিল। হরিহর পাশের ঘরে আহারাদি সেরে ঘুমাচ্ছিল। অপু ঘরের মধ্যে তাকের উপরে থাকা জিনিসপত্র কি নিয়ে যেতে পারে অথবা না পারে তা নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখছিল। উঁচু তাকের উপর একটা কলসি সরাতে গিয়ে তার ভিতর একটা কি জিনিস গড়িয়ে মেঝের উপরে পড়ে গিয়েছিল। সে সেটাকে মেঝে থেকে কুড়িয়ে নেড়েচেড়ে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। ধুলো ও মাকড়সার ঝুল মাখা হলেও জিনিসটা কি তার ইতিহাস বুঝতে তার বাকি রইল না।
সেই ছোট্ট সোনার কৌটা আগের বছর যেটা সেজো ঠাকুরানদের বাড়ি থেকে চুরি হয়েছিল। তখনই সে আপন মনে বলেছিল-" দিদি হতভাগী চুরি করে ওই কলসিটার মধ্যে লুকিয়ে রেখে দিয়েছিল"। সেই সোনার কৌটোর কথা অপু কাউকে জানায়নি। এই ঘটনার কথাই আলোচ্য অংশে বলা হয়েছে।
২) দিন নাই রাত নাই সর্বজয়া শুধু স্বপ্ন দেখে - তার দেখা স্বপ্নের বিবরণ দাও।
উঃ আলোচ্য অংশটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত পথের পাঁচালী উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
হরিহর যখন প্রথম কাশি থেকে আসতো তখন সকলে বলতো তাঁর ভবিষ্যৎ বড় উজ্জ্বল। সর্বজোয়াও ভাবতো শীঘ্রই হরিহর ভালো একটা চাকরি পাবে। বিদেশ থেকে ফিরে এসে হরিহর অন্য জায়গায় বাস করবে।
পাড়ার একপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছোট্ট দু তিন খানা ঘরহবে। সেই ঘরের গোয়ালে হৃষ্টপুষ্ট দুগ্ধবতী গাভী বাঁধা থাকবে ,মাচা ভরা বিচালি, গোলা ভরা ধান থাকবে। গরিব বলে কেউ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেনা। সে শুধু এই স্বপ্নই দেখে।
৩) অনেক রাত্রে সর্বজোয়ার ঘুম ভাঙ্গিয়া যায় - সেই রাতের ভয়াবহ পরিচয় দাও।
উঃ আলোচ্য অংশটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পথের পাঁচালী উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
সেই রাত্রিতে বাহিরে ভয়ানক বৃষ্টি হচ্ছিল। ছাদের ফুটো দিয়ে ঘরের সব জায়গায় জল পড়ছিল। দুর্গা অঘোরে জ্বরে শুয়ে থাকে। তার মা গায়ে হাত দিয়ে দেখে তার গায়ের গাধা ভিজে সপ সপ করছে।
ছেলে মেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেও সর্বজোয়ার ঘুম আসে না। তার মন ছমছম করে ওঠে। তার মনে হয় কিছু একটা ঘটবে। তিনি ভাবেন সেই মানুষেরই বা কি হলো কোন পত্র আসেনা টাকা মরুগকে যাক ।এরকম তো কোনো বার হয় না। অর্থাৎ তার শরীর নিয়ে চিন্তাভাবনা করে এবং সিদ্ধেশ্বরী মাতার কাছে পাঁচ আনার ভোগ দেওয়ার মানত করেছিল
৩. "ডাক বাক্সটার কাছে বসে থাকবি" - কে কাকে কেন ডাকবাক্সের কাছে বসে থাকতে বলেছে ?
উঃ প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পথের পাঁচালী উপন্যাস থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। এখানে সর্বজয়া তার পুত্র অপুকে ডাকবাক্সের কাছে বসে থাকতে বলেছে ।
কাজের উদ্দেশ্যে হরিহর বাইরে গেছে। তার অনুপস্থিতিতে সংসারের দায়-দায়িত্ব সর্বজোয়ার উপর ন্যাস্ত আছে। হরিহর মোট পাঁচটা টাকা পাঠিয়েছিল। তারপর কোন খবর নেই টাকাও নাই । সর্বজয়া হরিহরের খবরের আশায় থাকে। কিন্তু খবর না আসার কারণে সে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে ওঠে। তাই অপুকে ডাক বাক্সের কাছে বসে থাকার কথা বলেছে।
৪. "আধ ঘন্টার মধ্যে পাড়ার লোক উঠানে আসিয়া ভাঙ্গিয়া পড়িলো"- কাদের উঠোনে আসিল ? কেন আসিল ?
উঃ আলোচ্য অংশে হরিহর ও সর্বজয়ার বাড়ির উঠনের কথা বলা হয়েছে।
অভাবের তাড়নায় সর্বজয়া সংসার চালাতে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। তাই সে বাড়ির বৃন্দাবনী চাদর ও সাবেকি রেকাবি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। তার ওপর দুর্গা প্রচন্ড ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়। তার জন্য কিছু ভালো খাবার বা ঔষধ কিনতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী নীলমণি মুখুজ্জের চেষ্টায় শরৎ ডাক্তার আসেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্গা শেষ রক্ষা পায়নি। অবশেষে দুর্গার মৃত্যু ঘটে। এ খবর শুনে পাড়ার লোকেরা দুর্গাদের উঠোনে এসে জড়ো হয়।
Comments
Post a Comment
Haven't doubt please let me know.