প্রশ্নঃ জার্মানির ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বিসমার্কের 'রক্ত ও লৌহ' নীতি সম্পর্কে আলোচনা করো।
উঃ ইতালির মত জার্মানির ঐক্য সাধিত হয়েছিল সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে একটি রাজবংশের অধীনে। জার্মানির ক্ষেত্রে রাজবংশী ছিল প্রাশিয়ার হোহেনজালার্ন রাজবংশ। বিসমার্ক ছিলেন এই রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। জার্মানির খণ্ড খণ্ড রাজ্যগুলি স্বাধীন হলেও এদের ওপরে অস্ট্রিয়ার একটি নিয়ন্ত্রণ ছিল। তাছাড়া প্রতিবেশী শক্তিশালী দেশ ফ্রান্সও চায়নি জার্মান ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি শক্তিশাল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সের এ বাধা সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অপসারিত করতে বিসমার্ক বদ্ধপরিকর ছিলেন
1862 খ্রিস্টাব্দে অটো ফন বিসমার্ক প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হলে প্রথম উইলিয়ামসের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হওয়ার সুযোগ পায়। জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি নিম্নলিখিত নীতি গ্রহণ করেছিলেন –
রাজতন্ত্রে বিশ্বাসঃ
রাজতন্ত্রে বিশ্বাসী বিসমার্ক এর উদ্দেশ্য ছিল প্রাশিয়ার রাজতন্ত্রের অধীনে সমগ্র জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করা এব প্রাশিয়ার রাজতান্ত্রিক শাসনের ভাবধারায় জার্মানিকে প্রভাহিত করা।
রক্ত ও লৌহ নীতিঃ-
বিসমার্ক গণতান্ত্রিক রাজনীতির ওপর নয় রক্ত ও লৌহ নীতির ওপর আস্থাশীল ছিলেন। তিনি রাশিয়ার আইনসভা এ ঘোষণা করেন যে “বিতর্ক বা ভোটে দ্বারা নয় রক্ত ও লৌহ নীতির মাধ্যমেই জার্মানির সমস্যার সমাধান হবে।”
সামরিক শক্তিতে আস্থাঃ
বিসমার্ক উপলব্ধি করেন যে, একমাত সামরিক শক্তির জোরেই জার্মানির ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এজ তিনি প্রতিনিধি সভার মত অগ্রাহ্য করে প্রাশিয়ার সামরিক শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেন এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের মাধ্যমে সম জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। যথা- (১) ডেনমার্কের সঙ্গে যুদ্ধ (২) অস্ট্রিয়ার সাথে যুদ্ধ (৩) ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধ।
Comments
Post a Comment
Haven't doubt please let me know.